বৃহস্পতিবার ● ২৬ আগস্ট ২০২১
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
মো. আবুল কাশেম, স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পল্লীতে ৪র্থ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
পরে আজ বৃহষ্পতিবার দুপুরে সিলেট কোর্টে পাঠানো হয় তাকে।
গ্রেফতার কিশোরের নাম ইমন মিয়া (১৫)। সে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বাড়ই গ্রামের আতিক মিয়ার ছেলে ও পূর্ব শাসরাম গ্রামের অস্থায়ী বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম শাসরাম গ্রামের ৪র্থ শ্রেণির ওই ছাত্রী ঘটনার দিন গেল বুধবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খেলার উদ্দেশ্যে পাশর্বর্তী পূর্ব শাসরাম তার সহপাঠির বাড়ীতে যায়।
খোশগল্পের এক পর্যায়ে বান্ধবী পুকুর ঘাটে গেলে, সে তার মায়ের সাথে কথা বলছিল। তখন পাশাপাশি বাড়িতে বসবাসকারী বখাটে কিশোর ইমন তাকে ডেকে নিয়ে যায়। গ্রামের সেলিম মিয়ার রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে চম্পট দেয় সে। দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অচেতন পড়ে রয় ওই ছাত্রী।
দীর্ঘ সময় বাড়িতে তার অনুপস্থিতি দেখে, অনেক খোঁজাখুজি করে ওই রান্না ঘরেই অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন ভিকটিমের দাদি। খবর পেয়ে রাতেই অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নাম্বার-১৫, তাং-২৫.০৮.২০২১ ইংরেজি)
এ বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ গাজী আতাউর রহমান বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা নিয়েছি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
বিশ্বনাথে ‘মনে ওয় ই রাস্তার কোনো মাই-বাপ নাই, রাস্তা জুরি খালি শুধু গাত আর গাত
বিশ্বনাথ :: সড়ক যখন মরনের আরেক ফাঁদ হয়। তাহলে সড়কের কি আর প্রয়োজন? এমন প্রশ্ন এখন সড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা বলেন, ‘মনে ওয় ই রাস্তার কোনো মাই-বাপ নাই, এর লাগি অউ রাস্তার অত বাদ অবস্থা। হারা সমস্ত রাস্তা জুরি খালি শুধু গাত আর গাত। দেখলে লাগে ইকানও পুসকুনি (পুকুর) করা অইছে।
বৃষ্টির পানিতে সড়কে কাঁদা জমে জনসাধারণসহ রোগী নিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পন্যবাহী ট্রাকগুলো গর্তের মধ্যে ধাবীয়ে পড়ে যানচলাচলে বাধাঁ সৃষ্টি করে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় জনসাধারণকে।
সিলেটর বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক এখন হয়েছে সত্যি সত্যি একটি মরণ ফাঁদ! এসড়কের করুন পরিনতিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন দুই জেলার জনসাধারণ। জনবহুল প্রধান একটি সড়ক হচ্ছে সেটি। সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থেকে সিলেট জেলা সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের সাথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ওই সড়কটি।
ওই সড়ক দিয়ে সিলেট-রশিদপুর-বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুরসহ আশপাশ এলাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যানবাহনে চলাচল করেন এবং ব্যবসায়ী কাজে পন্যবাহী ট্রাক দ্বারা মালামাল বহন করে থাকেন।
সড়ক সংস্কার হচ্ছে প্রায় দেড় বছর ধরে। কিন্তু এতোদিন পরেও সড়কটি ‘যেলার অলা’ এমনটাই ক্ষুব্দ ভাষায় জানালেন ওই এলাকার চল্লিশোর্ধ এক বাস চালক। দুই উপজেলার জনসাধারণের চরম দূর্ভোগের নাম এই সড়কটি। আর যানবাহনের চালকদের কাছে এই সড়কটি এক আতঙ্কের নাম।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা গেছে, বিশমাস পূর্বে ২০২০সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্বনাথ সদর থেকে জগন্নাথপুর সীমানা পর্যন্ত প্রায় ২৩ কোটি টাকায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রসস্থকরণ কাজ শুরু করা হয়। গত ১০ মে এই কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু বাগিচা বাজার থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার সংস্কার কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
তার মধ্যে ঠিকাদারকে ৬/৭ কোটি টাকা বিলও পরিশোধ করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশলী সুত্রে জানাগেছে। এছাড়াও কাজের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর জনবহুল এই সড়কে পুকুরের মতো গর্তের সৃষ্ঠি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বাগিচা বাজার থেকে পিরের বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে পুকুরের মতো গর্ত হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তার পরেও নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাটুজলে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীবাহী ও মালবাহীসহ সকল প্রকারের যানবাহন।
তিনমাস ধরে চলমান কাজ বন্ধ থাকায় এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছেন জনসাধারণ। এছাড়াও বিশ্বনাথ সদর থেকে বাগিচা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে প্রায় তিনমাস পূর্বে। মাত্র তিন মাসের ভেতরে এই সংস্কারকৃত অংশেও ভাঙন ধরে বড় বড় গর্তের সৃষ্ঠি হয়েছে। এতে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকেই।
তবে এই সংস্কারকৃত অংশের কালিগঞ্জ বাজারের সেতুর পশ্চিম মুখ থেকে দতা নামক স্থান পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাজ করার বাকি রয়েছে। কিন্তু সংস্কারের বাকি অংশের কাজ না করে তিনটি মাস ধরে ঠিকাদার আছেন ঘুমে। আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছেন জনসাধারণ।
এব্যাপারে কথা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব ঠিকাদার সুহেল খান তিনমাস ধরে কাজ বন্ধের বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বর্তমানে শরিয়তপুর গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন। আগামি সপ্তাহে কাজ ধরবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সাইদ সাংবাদিকদের বলেন, গত সোমবার সিলেটে মাসিক সভায় এবিষয়ে কথা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবারও কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীর সাংবাদিকদের বলেন, বর্ষা মৌসুমের কারনে সড়কটির কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আগামী অক্টোবরের দিকে কাজ শুরু হবে। আর আগামী সপ্তাহে বাজারের কিছু অংশে কাজ শুরু হচ্ছে।
বিশ্বনাথে মই থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
বিশ্বনাথ :: সিলেটের বিশ্বনাথে মই থেকে পড়ে মো. আকিল (৩০) নামে এক দিনমজুর মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্বনাথ পৌরসভার মিয়াজানেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
মারা যাওয়া আকিল মিয়াজানেরগাঁও গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফারুক মিয়ার বাড়িতে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। তার পিতার নাম মৃত আবদুল। তাদের মূল বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার সকালে মিয়াজানেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা করতে যান দিনমজুর আকিল। তিনি একটি স্টিলের মই নিয়ে বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের চালে জমে থাকা ময়লা ঝাড় দিয়ে পরিস্কার করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে তিনি মই থেকে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিয়াজানেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিতালী ভট্টাচার্য বলেন, আমি সে সময় বিদ্যালয়েই ছিলাম। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমার ধারণা, ওই দিনমজুর হয়তো হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী আতাউর রহমান জানান, কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত মই থেকে পড়ে দিনমজুর আকিল মারা গেছেন। তবুও, এই মৃত্যু নিয়ে যাতে কোনো বিতর্ক দেখা না দেয়, সে জন্যে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হচ্ছে।